আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, মানুষের চোখ কয়টি? আপনি সাথে সাথেই বলে দিতে পারেন দুইটি। হ্যা, আপনার উত্তর হয়েছে। তবে আপনি তাই বলেছেন যা আপনি খালি চোখে দেখেছেন। আমাদের চোখ আসলে তিনটি। খুব অবাক লাগছে তাইনা? আমরা আপাতদৃষ্টিতে দুইটির খবর জানলেও, আরেকটি চোখ আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরেই অবস্থান করে, আর তার নাম “পিনিয়াল গ্রন্থি”। আমরা সচারাচর দুইটি চোখ দেখে অভস্ত্য থাকলেও পিনিয়াল গ্রন্থি তার তিন নাম্বার চোখ এর কাজ করেই যাচ্ছে।
পিনিয়াল গ্রন্থি কী?
এটি এমন এক নালি বিহীন গ্রন্থি যা মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থান করে। যেখান থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়। এখন কথা হচ্ছে এই নালি বিহীন গ্রন্থি কী? আমরা জানি যে,মানুষের শরীরের বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক কাজ সম্পন্ন করে প্রধানত এঞ্জাইম এবং হরমোন। এর মধ্যে এঞ্জাইমগুলো নালি এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে যায়।
অপর দিকে, যে সকল জৈব রাসায়নিক বস্তু শরীরের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত হয়ে নালি ছাড়াই দূরের জায়গায় পৌঁছে অনেক ধরনের কাজ করে থাকে তাকেই আমরা হরমোন বলছি।
আকৃতি ও গঠন:
এই গ্রন্থির আকৃতি পাইন কোনের মতো। এর রঙ অনেকটা লালচে ধুসর। শস্য দানার মতো যার দৈর্ঘ্য ৫-৮ মিলিমিটার। গ্রন্থির অপর নাম কোনরিয়াম বা এপিফাইসিস সেরিব্রি।
কেন পিনিয়াল গ্রন্থি কে তিন নাম্বার চোখ বলা হয়?
গ্রন্থিটির মেলাটোনিন নামক সেরোটোনিন থেকে একটি হরমোন উৎপন্ন হয়ে থাকে যা ছন্দ ও সময় ভিত্তিক উভয় প্রকার ক্ষেত্রেই ঘুমের রীতি নিয়ন্ত্রন করে। এই হরমোন অন্ধকারে বাড়ে এবং আলোতে কমে।
আমরা “অল্প আলো”,“আলো নেই এমন অবস্থা”,“বেশি আলো”,ইত্যাদি উপলব্ধি করতে পারি পিনিয়াল গ্রন্থি যে হরমোন নিঃসৃত হয় তার মাধ্যমে। আবার আমাদের দেহ ঘুমের জন্য একটি ধরন অনুসরণ করে, যার সঙ্গে জৈব ঘড়ি বা দেহ ঘড়ি এর সম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
ডায়াবেটিস কি? কেন হয়? লক্ষণ ও চিকিৎসা
অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা কি কেন লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনির সুস্থতা -কিডনি সুস্থ রাখতে যা যা করণীয়
আমরা দৈনিক কখন ঘুমাতে যাই, কখন ঘুম থেকে উঠি, কখন জেগে থাকি এসব কিছুর সাথে পিনিয়াল গ্রন্থির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। পিনিয়াল গ্রন্থির নিজস্ব স্নায়ুকোষ রয়েছে যা চোখ এর রেটিনার স্নায়ুকোষ এর ন্যায়।
মানুষ ছাড়াও আরও অনেক মেরুদণ্ড আছে এমন প্রাণীদের মধ্যে এই গ্রন্থি দেখা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা তাপ পরিমাপক যন্ত্র হিসেবে কাজ করে শীতল রক্তের প্রাণীদের মধ্যে।
সর্বশেষ বলা যায়, পিনিয়াল গ্রন্থি সত্যিই এক বিস্ময়কর অংগ মানুষের জন্য, কেননা আমরা সকলেই এই গ্রন্থি দিয়ে পরিচালিত।













